পানির অপর নাম জীবন। কিন্তু সেই পানি তোলার সেচ প্রকল্পই এবার কেড়ে নিল একটি তাজা প্রাণ। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় সেচ প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওহেদ ভূঁইয়া (৬০) নামের এক কৃষককে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তার মরদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয় পুকুরের জলে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার একটি পুকুর থেকে পুলিশ তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক।
নিহত ওহেদ ভূঁইয়া লক্ষ্মীপুর গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির মৃত দুধ মিয়া ভূঁইয়ার ছেলে। কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় একটি সেচ প্রকল্পের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ওহেদ ভূঁইয়া বাড়ি থেকে লক্ষ্মীপুর বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। কিন্তু রাত গভীর হলেও তিনি আর ঘরে ফেরেননি। স্বজনরা রাতভর সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস পাননি। মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে লক্ষ্মীপুর পশ্চিমপাড়ার আবু সাঈদের পুকুরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্তব্ধ হয়ে যান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ওহেদ ভূঁইয়ার লাশ শনাক্ত করে।
নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো সাধারণ হত্যাকাণ্ড নয়, বরং ঠান্ডা মাথার সুপরিকল্পিত খুন। নিহতের স্ত্রী সানোয়ারা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “এলাকার একটা সেচ প্রকল্প পরিচালনা করা নিয়া স্থানীয় কয়েকজনের সাথে আমার স্বামীর দীর্ঘদিন ধইরা বিরোধ চলতাছিল। ওই বিরোধের জের ধইরাই ওনারে পরিকল্পিতভাবে গলা কাইটা মাইরা পুকুরে ফালাইয়া রাখছে। আমি আমার স্বামীর খুনিদের ফাঁসি চাই।”
খবর পেয়ে মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধারপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, মরদেহের গলায় গভীর ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে, যা অত্যন্ত নৃশংস। প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে।
হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।
তিনি আরও জানান, তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য সব দিক গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুতই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
একটি সেচ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এমন পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে লক্ষ্মীপুর গ্রাম এখন থমথমে। এলাকাবাসীর মনে এখন একটাই প্রশ্ন—এই নৃশংসতার শেষ কোথায়? তারা অনতিবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।৷


