Homeজাতীয়যে কোন মুহুর্তে ভেঙে যেতে পারে ঢাকা-তারাকান্দি সড়ক, বন্যাতঙ্কে চার উপজেলার মানুষ

যে কোন মুহুর্তে ভেঙে যেতে পারে ঢাকা-তারাকান্দি সড়ক, বন্যাতঙ্কে চার উপজেলার মানুষ

মোঃ দুলদুল হোসেন রাজু, টাঙ্গাইল সংবাদদাতা:
যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া-নলিন এলাকায় তারাকান্দি-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গত কয়েক দিনের অব্যাহত ভাঙনে সোমবার রাতেও নলিন বাজার সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৬০ ফুট সড়ক নদীতে তলিয়ে যায়। একই সঙ্গে সড়কের মাঝখানে নতুন করে ফাটল দেখা দেওয়ায় ঝুঁকির কারণে টানা তৃতীয় দিনের মতো সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের চাপে শাখারিয়া স্লুইসগেট সংলগ্ন সড়ক কাম বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে মহাসড়কের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের আশঙ্কায় আশপাশের বাড়িঘরের বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সড়ক কাম বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে গোপালপুরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হতে পারে। এতে কয়েক লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সড়কে ফাটল ও ভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয়। সোমবার দুপুরে শাখারিয়া স্লুইসগেট সংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০০ ফুট এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিং করতে দেখা যায়।

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্রোতের চাপ বেড়েছে। ভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইন উদ্দিন বলেন, পানির তীব্র চাপে আঞ্চলিক মহাসড়কের ওই অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং নদীর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে দ্বিতীয় দিন থেকে তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। হেমনগর পুলিশ ফাঁড়ি জানিয়েছে, বিকল্প হিসেবে নলিন বাজার হয়ে যানবাহন চলাচল করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত নদী খনন এবং কার্যকর নদীশাসনের অভাবে যমুনার ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তারা দ্রুত টেকসই নদীশাসন ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments