লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
আসন্ন লাকসাম পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী মাঠে শুরু হয়েছে নতুন করে তৎপরতা। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রার্থী ঘোষণা ও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে জমে উঠছে নির্বাচনী পরিবেশ। এরই ধারাবাহিকতায় লাকসাম পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে মো. মমিন মাওলার নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
গত ২২ আগস্ট শনিবার বিকেলে লাকসাম পৌরসভা মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে লাকসাম পৌরসভার ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডের জন্য দলীয় মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সেখানে ১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী হিসেবে মো. মমিন মাওলার নাম প্রকাশ করা হয়।
সম্মেলনে লাকসাম পৌরসভা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কল্যাণে কাজ করা, সামাজিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখা এবং মানবিকতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
১ নম্বর ওয়ার্ডে মমিন মাওলাকে ঘিরে আলোচনা মমিন মাওলার নাম কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার পর লাকসাম পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে একজন কাউন্সিলর ওয়ার্ডের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে নাগরিক সমস্যা তুলে ধরতে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারেন।
নির্বাচনী মাঠে মমিন মাওলার সামনে এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হবে সাধারণ ভোটারদের কাছে তাঁর পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার তুলে ধরা। এলাকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন, পরিচ্ছন্নতা, সড়কবাতি, নাগরিক নিরাপত্তা এবং অন্যান্য জনসেবামূলক বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা থাকবে ভোটারদের।
জনবান্ধব নেতৃত্বের প্রত্যাশা:
১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা—তাঁরা এমন একজন কাউন্সিলর চান, যিনি নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চাইবেন শুধু তা নয়, নির্বাচিত হওয়ার পরও নিয়মিতভাবে এলাকার মানুষের পাশে থাকবেন।
স্থানীয়দের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত তাঁর জনসম্পৃক্ততা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কথা শোনা, নাগরিক সমস্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা এবং ওয়ার্ডের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কার্যকর ভূমিকা রাখাই একজন কাউন্সিলরের অন্যতম দায়িত্ব।
উন্নয়ন ও নাগরিক সেবাকে গুরুত্ব:
১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন, পরিচ্ছন্নতা, সড়কবাতি ও নাগরিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
মমিন মাওলা নির্বাচিত হলে এসব বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকরা। একই সঙ্গে দল-মত ও শ্রেণি-পেশার পার্থক্য না করে সব মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যাশাও রয়েছে সাধারণ ভোটারদের।
দলীয় প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ:
সাম্প্রতিক সম্মেলনে মমিন মাওলাসহ লাকসাম পৌরসভার ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তালিকায় ১ নম্বর ওয়ার্ডে মমিন মাওলা, ২ নম্বরে আবুবকর জাহিদ, ৩ নম্বরে লোকমান হোসেন, ৪ নম্বরে আকবর হোসেন মোল্লা, ৫ নম্বরে খোরশেদ আলম তুহিন, ৬ নম্বরে জাহাঙ্গীর আলম, ৭ নম্বরে সাইফুল ইসলাম খোকন, ৮ নম্বরে ফরিদ উদ্দিন ছিদ্দিকী এবং ৯ নম্বরে আবু জাফর সালেহের নাম রয়েছে।
এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদেও তিনটি আসনের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাই ও সাংগঠনিক প্রস্তুতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ভোটারদের রায়ই চূড়ান্ত:
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই প্রার্থীদের গণসংযোগ, মতবিনিময় ও প্রচার-প্রচারণা বাড়বে। ১ নম্বর ওয়ার্ডেও ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীদের যোগাযোগ আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নির্বাচনী মাঠে শেষ কথা বলবেন ভোটাররাই। প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা, নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণের সক্ষমতা ভোটের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মমিন মাওলার প্রার্থিতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে লাকসামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনী মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এখন ভোটারদের প্রত্যাশা—যে প্রার্থীই নির্বাচিত হোন, তিনি যেন জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন, এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক সেবাকে অগ্রাধিকার দেন এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।


