লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
তিস্তা নদীর প্রবল স্রোতে রংপুর ও লালমনিরহাটে তিনটি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে অন্তত আটটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে ভাঙা বাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় পাঁচ হাজারের বেশি পরিবার আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। পানিতে তলিয়ে গেছে আবাদি জমি, বসতভিটা, মাছের পুকুর ও গ্রামীণ সড়ক। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্নেয়া ও তালপট্টি এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম হরিণচড়া, আদর্শ বাজার, হাজীরপাড়া, বাঁশদহ ও আদর্শপাড়া। এছাড়া হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামেও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে প্রবল স্রোতে গঙ্গাচড়ার তালপট্টি এলাকায় প্রায় ২৫০ মিটার বাঁধ ধসে পড়ে। এতে মর্নেয়া ও তালপট্টি গ্রামে পানি ঢুকে পড়ে। একই সময়ে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম হরিণচড়া এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার এবং হাতীবান্ধার ধুবনী এলাকায় প্রায় ৬০ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভাঙা অংশ দিয়ে নদীর পানি ঢুকে একের পর এক গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।
তালপট্টি গ্রামের কৃষক আজিজার রহমান বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে নদীর পানি গ্রামে ঢুকছে। অধিকাংশ আবাদি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে, অনেক বাড়িতেও পানি উঠেছে। নতুন করে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেই শঙ্কায় রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না তারা।
লালমনিরহাট সদরের পশ্চিম হরিণচড়া গ্রামের বাসিন্দা দবিয়ার রহমান বলেন, নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকায় তিনি বাড়ির পাশের বড় গর্তের কারণে ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। আবার পানি বাড়লে পুরো গ্রাম ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
বাঁশদহ গ্রামের কৃষক আব্দুল গফুর জানান, ভাঙা সড়ক দিয়ে পানি ঢুকে তার ছয় বিঘা আবাদি জমি তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ জমির আমন ধানের বীজতলাও পানির নিচে রয়েছে। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আল আমিন সরকার জানান, প্রায় চার মাস আগে ৮০ টন চালের বরাদ্দে নির্মিত ২ হাজার ২১০ মিটার দীর্ঘ বাঁধ-কাম-সড়কের প্রায় ২০০ মিটার অংশ ধসে গেছে। পানি কমার আগে এটি সংস্কার করা সম্ভব নয়। আপাতত পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, পুরো বাঁধ রক্ষায় বিপুল পরিমাণ জিওব্যাগ প্রয়োজন। আপাতত নতুন করে ভাঙন ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ধুবনী এলাকায় পানি কমলে বাঁধ সংস্কার করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি ৫১ দশমিক ৮৯ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নিচে। তবে গত এক মাসে কয়েক দফা পানি বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক এখনো কাটেনি।


