মশিউর রহমান সেলিম, কুমিল্লা:
কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের বৃহত্তর লাকসামের নাঙ্গলকোট, লালমাই ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৪৯টি ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে ১৬টি প্রকল্পের নামে চলছে কর্মকর্তাদের অনিয়ম, দায়িত্বহীনতা ও দূর্নীতির মহোৎসব। এ অঞ্চলের তথ্য সেবা কেন্দ্রগুলো মানুষের এখন আর কাজে আসছে না। এটি এখন কয়েকলাখ মানুষের গলার কাঁটা হিসাবে পরিনত হয়েছে। ‘‘তথ্যই শক্তি’’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে সরকারগুলো শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে তথ্য প্রবাহ সাধারন মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে প্রতিটি পৌরসভা ও ইউনিয়নের তথ্য সেবা কেন্দ্র চালু করেছে।
লাকসামে ১০টি, লালমাই ৯টি, নাঙ্গলকোটে ১৮টি ও মনোহরগঞ্জে ১২টি তথ্য কেন্দ্র এর ব্যাক্তিক্রম ঘটেনি। তথ্য সেবা কেন্দ্রগুলো প্রতিষ্ঠার প্রায় ৬ বছর পার হলেও এক বিষফোঁড়া হিসাবে দেখা দিয়েছে মানুষের কাছে। তথ্য সেবার নামে চলছে তথ্য বিভ্রান্তি। প্রত্যেকটি তথ্য কেন্দ্রে ১৬টি সেবা প্রকল্পে চলছে অনিয়ম ও দূর্নীতি। বিশেষ করে সেবা কেন্দ্রগুলো সাধারন মানুষের এখন আর কোন কাজে আসছে না।
সরেজমিনে উপজেলাগুলোর বেশ কয়টি ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রে দেখা যায়, সাধারন মানুষকে তথ্য সেবার পরিবর্তে তথ্য বিভ্রান্তি করে চলেছে ঐ কেন্দ্রগুলোর কর্মকর্তারা। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে প্রচুর অভিযোগ। এ বিষয়ে কথা হয় ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও ইউপি চেয়ারম্যনদের সাথে। বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ তথ্য সেবা কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে শুনেছি। তাদেরকে সাবধানও করেছি।
এমন কি তাদের ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছি। অন্য দিকে ঐসব তথ্য সেবা কেন্দ্রগুলোতে ওয়েব সাইড থেকে তথ্য নিতে পারে না মানুষ, কৃষি প্রযুক্তি ও কৃষি উন্নয়নের হাল নাগাদ তথ্য বিভ্রান্তি, স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য অপরাগতা, আইন ও মানবাধিকার সংক্রান্ত তথ্য নাই বললেই চলে, কর্মসংস্থান বিষয়ে তথ্য চাইলে সময় নাই পরে আসুন, বাজার মূল্য সম্পর্কিত তথ্যে কোন হাল নাগাদ মনিটরিং তথ্য নাই, বিভিন্ন সরকারী ফরম সংগ্রহ করতে দিতে হয় নির্ধারিত ফির চাইতে অনেক বেশী টাকা, ই-মেইল আদান প্রদানে ভানুমতির খেল, কম্পিউটার কম্পোজ, প্রিন্ট ও ইন্টারনেট ব্রাউজিং এবং ষ্ক্যানিং ও ছবি তোলা বিভিন্ন অজুহাতে করা যায় না, দেশ-বিদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্ত্তি তথ্য অনভিজ্ঞতায় বের করা সম্ভব হয় না, ব্যবসা বানিজ্য সংক্রান্ত কাগজপত্র নিতে দিতে হয় ফি চাইতে অধিক টাকা, ইউপি উন্নয়ন কার্যক্রম তথ্য কতৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দেয়া যাবে না, গুরুত্বপূর্ন কোন দলিল পত্র সংরক্ষনে কোন তথ্য নেই এবং জন্ম নিবন্ধন, বিদ্যুৎবিল, মৃত্যুসনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে গেলে সরকারী ফির চাইতে দিতে হয় অনেক বেশী টাকা।
এ দিকে এ অঞ্চলের ৪৯টি সেবা কেন্দ্রে এখন আর মানুষ যেতে চায় না। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র গুলো বর্তমানে নিজেই নানাহ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। ইউএনডিপি’র আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় তথ্য সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে গ্রামের সংস্কার বা কৃষিখাতে কম খরচে অল্প সময়ে সেবা পেতে পারে এ জন্য সরকার ১৬ টি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। তথ্য সেবা কেন্দ্রের সেবার মূল্য নির্ধারন ও মনিটরিংয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি থাকলেও তা কাগজ কলমে আছে গোয়ালে নেই। কোন কেন্দ্রেই সরকারী ভাবে সেবার মূল্য তালিকা টাঙ্গানো হয়নি।
অপরদিকে গত বৃহস্পতিবার বিকালে লাকসাম পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে এ অঞ্চলের বেশির ভাগ গ্রাহক ওই তথ্য সেবাকন্দ্রে বিদ্যুবিল পরিশোধ করা হলেও পুনরায় নতুৃন বিলে বাড়তি ও ভৌতিক বিল করার প্রতিবাদ জানালেও কোন প্রতিকার পায় না মানুষ। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি দল বিভিন্ন ইউনিয়নের তথ্য সেবা কেন্দ্রের বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ডের চিত্র জানতে চাইলে তারা অপারগতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় আরেকটি সূত্র জানায়, ৪টি উপজেলার বেশ কয়টি ইউনিয়নের প্রায় তথ্য সেবা কেন্দ্রে এলাকার মানুষ নির্দিষ্ট সেবা না পেলেও যুবক-যুবতীদের মোবাইল গান, ভিডিও গান লোড করে অর্থ আদায় করছে। পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক বিল গ্রহন করে অফিসে জমা না দিয়ে ব্যাক্তিগত ব্যবসায় ঐ বিলের টাকা খাটাচ্ছে। কোন কোন সেবা কেন্দ্রে কর্মকর্তার চর্তুদিকে চেয়ারগুলো স্থানীয় চিহ্নিত রাজনৈতিক ক্যাডাররা দখল করে ঘন্টার পর ঘন্টা ঐ কর্মকর্তার সাথে মধু চন্দ্রিমা পালন করছে কিন্তু অনেকক্ষন সেবা না পেয়ে গ্রাহকদের অনেকেই ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন এটাই কি তথ্য সেবার নমূনা।
এ ব্যাপারে উপজেলা ৪টির সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জনৈক কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা রাজনৈতিকভাবে চাপে আছি। প্রত্যেকটি ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র সম্পর্কে বহু অভিযোগ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে শুনেছি কিন্তু কোন লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি। তথ্য প্রমান সহ অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


