Homeনির্বাচিত সংবাদলালদিয়া টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু ডিসেম্বরে

লালদিয়া টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু ডিসেম্বরে

বিশ্বজুড়ে ৬০টিরও বেশি বন্দর ও টার্মিনাল পরিচালনা করছে এপিএম টার্মিনালস। সম্প্রতি চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের প্রস্তাবিত নকশা (লেআউট) ও পরিচালনার রূপরেখা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

প্রয়োজনীয় সরকারি ও রেগুলেটরি অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৬ সালের শেষের দিকে এর নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ার সিইও রমেশ ডেভিড। ‘আমাদের টিম এখন নকশা চূড়ান্ত করার কাজ করছে। পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে যথোপযুক্ত সমন্বয় নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা নিবিড়ভাবে কাজ চালিয়ে যাব।’প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, ২০৩০ সালের মধ্যে টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হবে।

নির্মাণকাজ শেষ হলে এটি হবে বাংলাদেশের প্রথম শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগে তৈরি কনটেইনার টার্মিনাল। এই টার্মিনালে বছরে ৮ লাখ টিইইউর (টুয়েন্টি ফুট ইকুইভ্যালেন্ট) বেশি কনটেইনার পরিচালনা করা যাবে। এর ফলে টার্মিনালটি চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা প্রায় ২৩ শতাংশ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে বন্দরে জট কমবে, কাজের গতি বাড়বে এবং ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমাতেও তা সহায়তা করবে।
প্রকল্পের এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, প্রস্তাবিত এই বিনিয়োগ ও টার্মিনালের নকশা প্রকাশ দেশের সমুদ্রবন্দরকেন্দ্রিক লজিস্টিকস অবকাঠামো শক্তিশালী করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এই টার্মিনাল অপারেটর সম্প্রতি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকল্পটির নকশার ধারণা ও প্রযুক্তিগত দিকগুলো প্রকাশ করেছে। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে এই টার্মিনাল বাংলাদেশের নৌ-সক্ষমতা বাড়াবে, বড় আকারের জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমকে আধুনিকায়ন করবে।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলের আওতায় টার্মিনালটির নকশা তৈরি, অর্থায়ন, নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) সঙ্গে ৩০ বছরমেয়াদি চুক্তি সই করে এপিএম টার্মিনালস বিভি। ওই চুক্তির কয়েক মাস পরই এসব তথ্য প্রকাশ করা হলো।

 

টার্মিনালের নকশা প্রকাশকে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বার অভ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি আমিরুল হক বলেন, ‘প্রস্তাবিত এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের সমুদ্র যোগাযোগ ও বাণিজ্য খাতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। চট্টগ্রামে এই নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করায় এবং শহরটিকে আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাবে পরিণত করার ভিশনের জন্য শীর্ষস্থানীয় অপারেটর এপিএম টার্মিনালসের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’

আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে মাতৃদুগ্ধ বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত লেআউট অনুযায়ী, লালদিয়া টার্মিনালের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে এটি ৬ হাজার টিইইউ পর্যন্ত ধারণক্ষমতার কনটেইনার জাহাজ হ্যান্ডল করতে পারে। এটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়া জাহাজগুলোর বাস্তব ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি। এই টার্মিনালে ১০.৫ মিটার ড্রাফটের ৬১৩ মিটার দীর্ঘ জেটি থাকবে। এতে সাতটি শিপ-টু-শোর ক্রেন, ৩২টি বিদ্যুৎচালিত রাবার টায়ারযুক্ত গ্যান্ট্রি ক্রেন (ইআরটিজিএস) ও ৪১টি বিব্যুৎচালিত টার্মিনাল ট্রাক্টর (ইটিটিএস) থাকবে।

নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এই টার্মিনালের মাধ্যমে বড় আকারের কনটেইনার জাহাজ সরাসরি চট্টগ্রামে ভিড়তে পারবে। এটি কার্গো হ্যান্ডলিং দক্ষতা ও শিপিংয়ের নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে এবং দেশের ব্যস্ততম সমুদ্রবন্দরের জট কমাবে।

এপিএম টার্মিনালস জানিয়েছে, এই প্রকল্প আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযুক্তি শক্তিশালী করবে। সেই সঙ্গে দেশের দ্রুত বর্ধনশীল বাণিজ্যের প্রসারকেও সহায়তা করবে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৬০টিরও বেশি বন্দর ও টার্মিনাল পরিচালনা করছে সংস্থাটি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments