নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এই টার্মিনাল অপারেটর সম্প্রতি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকল্পটির নকশার ধারণা ও প্রযুক্তিগত দিকগুলো প্রকাশ করেছে। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে এই টার্মিনাল বাংলাদেশের নৌ-সক্ষমতা বাড়াবে, বড় আকারের জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমকে আধুনিকায়ন করবে।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলের আওতায় টার্মিনালটির নকশা তৈরি, অর্থায়ন, নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) সঙ্গে ৩০ বছরমেয়াদি চুক্তি সই করে এপিএম টার্মিনালস বিভি। ওই চুক্তির কয়েক মাস পরই এসব তথ্য প্রকাশ করা হলো।
টার্মিনালের নকশা প্রকাশকে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বার অভ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি আমিরুল হক বলেন, ‘প্রস্তাবিত এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের সমুদ্র যোগাযোগ ও বাণিজ্য খাতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। চট্টগ্রামে এই নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করায় এবং শহরটিকে আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাবে পরিণত করার ভিশনের জন্য শীর্ষস্থানীয় অপারেটর এপিএম টার্মিনালসের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’
আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে মাতৃদুগ্ধ বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
প্রকাশিত লেআউট অনুযায়ী, লালদিয়া টার্মিনালের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে এটি ৬ হাজার টিইইউ পর্যন্ত ধারণক্ষমতার কনটেইনার জাহাজ হ্যান্ডল করতে পারে। এটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়া জাহাজগুলোর বাস্তব ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি। এই টার্মিনালে ১০.৫ মিটার ড্রাফটের ৬১৩ মিটার দীর্ঘ জেটি থাকবে। এতে সাতটি শিপ-টু-শোর ক্রেন, ৩২টি বিদ্যুৎচালিত রাবার টায়ারযুক্ত গ্যান্ট্রি ক্রেন (ইআরটিজিএস) ও ৪১টি বিব্যুৎচালিত টার্মিনাল ট্রাক্টর (ইটিটিএস) থাকবে।
নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এই টার্মিনালের মাধ্যমে বড় আকারের কনটেইনার জাহাজ সরাসরি চট্টগ্রামে ভিড়তে পারবে। এটি কার্গো হ্যান্ডলিং দক্ষতা ও শিপিংয়ের নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে এবং দেশের ব্যস্ততম সমুদ্রবন্দরের জট কমাবে।
এপিএম টার্মিনালস জানিয়েছে, এই প্রকল্প আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযুক্তি শক্তিশালী করবে। সেই সঙ্গে দেশের দ্রুত বর্ধনশীল বাণিজ্যের প্রসারকেও সহায়তা করবে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৬০টিরও বেশি বন্দর ও টার্মিনাল পরিচালনা করছে সংস্থাটি।


