Homeজাতীয়কুমিল্লায় ৪৩টি ইউপি নির্বাচন ঘিরে সম্ভ্যাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

কুমিল্লায় ৪৩টি ইউপি নির্বাচন ঘিরে সম্ভ্যাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

মশিউর রহমান সেলিম,  কুমিল্লা: 
কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের বৃহত্তর লাকসামের লালমাই, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নে বেজে উঠেছে নির্বাচনী ঢামাঢোল। শুরু হয়েছে অনেকেরই প্রার্থীতা নিয়ে গুঞ্জন। অন্যদিকে সরকারী দল নির্বাচনের সকল আয়োজন সম্পূর্ন করলেও এ ইউপি নির্বাচনে ৪টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নে প্রায় ৩৬০টি ওয়ার্ডে সরকারি দল প্রার্থী বাছাইয়ে পড়বে মহাসংকটে। তবে অন্য দলের রয়েছে একক প্রার্থী। এতে আগাম পৌরসভা ও উপজেলা   নির্বাচনের প্রাক প্রস্তুতি হিসাবে কেউ কেউ মনে করলেও মূলতঃ তা হবে শাসকদল ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার জনপ্রিয়তার পরীক্ষা।
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জেলা দক্ষিণাঞ্চলের লাকসাম উপজেলায় ৮টি, লালমাই উপজেলায় ৮টি, নাঙ্গলকোট উপজেলায় ১৬টি ও মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ১১টি ইউনিয়নে এ গুরুত্বপূর্ন নির্বাচনের দিনক্ষন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সম্ভাব্য প্রার্থীদের দূঃচিন্তা বাড়ছে। শাসকদলের বড় সমস্যা সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ির ফলে প্রার্থী বাছাইয়ে পড়বে মহাসংকটে তবে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার আশংকা অনেকের। এ নিয়ে প্রত্যেক ইউনিয়নে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বাড়ছে আভ্যন্তরিন চাপা কোন্দল। তাই শাসকদল ও স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক কর্মকান্ডের প্রতি নজর একটু বেশী রাখছেন বিরোধী দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা। তবে শাসকদলের সম্ভাব্যপ্রার্থীরা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে সকল সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাপও ততই বাড়ছে।
এদিকে জেলা দক্ষিনাঞ্চেলের সকল ইউপির স্থানীয় লোকজন এ নির্বাচনে টাকার খেলা, পেশীশক্তি, হোন্ডা-গুন্ডার দাপট, প্রশাসনিক কারসাজির ধুম্রজাল সৃষ্টি করে একটি গোষ্ঠি অবাধ নিরপেক্ষ এ স্থানীয় নির্বাচনকে কলংকিত করার আশংকা করছেন কেউ কেউ। বিশেষ করে আসন্ন ইউপি নির্বাচন ঘিরে কার লাভ, কার ক্ষতি হবে এমন প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। আবার পাশাপাশি চলছে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চুল ছিড়া হিসাব নিকাশ ও নানাহ সমীকরন। তবে কঠিন সমীকরনে পড়বে শাসকদলও কারন তৃণমূলে কেউ কেউ মনে করছেন প্রতীক ছাড়া দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করা অনেকটা কঠিন হবে।
এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে চেয়ারম্যান- মেম্বার প্রার্থীদের কেউ কেউ ক্যাডার রাজনীতির সাথে জড়িত বিধায় ক্লিন ইমেজ প্রার্থী সংকটে ভুগছে প্রধান প্রধান দলীয় রাজনীতির ইউপি ওয়ার্ডগুলো। উপজেলা ৪টি বেশির ভাগ ইউপির বিভিন্ন মাধ্যমের সূত্রগুলো জানায়, বর্তমান সরকারের এ নয়া পদক্ষেপে স্বতন্ত্রপ্রার্থীরাও এ ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে ফলে এ নির্বাচনে সম্ভাব্য ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদের গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেকটা বেড়ে গেছে। তবে বিগত সরকারের সকল নির্বাচনে বিতর্কিত ফলাফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও স্থাণীয় প্রশাসনের সার্বিক ভূমিকা নিয়ে অনেকটা সংকিত কেউ কেউ। বিশেষ করে সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রত্যেক ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে শুভেচ্ছা-অভিনন্দন জানিয়ে পোষ্টার, ব্যানার ও ফেষ্টুন লাগাচ্ছেন গ্রামাঞ্চলের অলিগলিতে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রগুলো আরও জানায়, লাকসাম, লালমাই, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নের  নির্বাচনের তফসিলএখনও ঘোষনা না হলেও আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে মধ্যে তফছিল ঘোষনা হতে পারে এমন সম্ভাবনায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান  ও মেম্বার প্রার্থীদের দৌঁড়ঝাপের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ ইতিমধ্যে জেলা-উপজেলা থেকে কেন্দ্রীয় শীর্ষনেতাদের দ্বারে দ্বারে মনোনয়ন লাভে ধর্না দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিজ নিজ ব্যানারে টানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যোগ দিচ্ছেন এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক, দলীয় অনুষ্ঠান এবং ঘুরছেন আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ী। গ্রামাঞ্চলের অলিগলি, পাড়া-মহল্লায়, সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও চায়ের দোকানে চলছে এ ইউপি নির্বাচন নিয়ে আলোচনার ঝড়। ৪ উপজেলায় এ পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ৪৩টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রায় ৫শতাধিক, সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রায় ৩শতাধিক ও ৩৬০টি ওয়ার্ডে প্রায় শহস্রাধিক মেম্বার প্রার্থীর নাম শুনা যাচ্ছে।
অপরদিকে দেশের সংবিধানে গনতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরন এবং সেই লক্ষে প্রতিটি স্তরের স্থানীয় সরকারী প্রশাসনকে নিজ নিজ ক্ষমতা বলে পরিপূর্ন স্বাধীনতা প্রদান ও পূর্ন ক্ষমতায়নের নির্দেশনা থাকলেও বিগত সরকারের শাসনামলে বাস্তব পরিস্থিতিতে কী দেখছি এটা কিন্তু সবার জানা। স্থানীয় সরকারের কাজে বহু অন্তরায় থাকা শর্তেও নানাহ সৃজনশীল স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা সম্ভব। বিশেষ করে অনিয়ম, দূর্নীতি, অনাচার, অবিচার, তদবীরবাজ ও চাঁদাবাজির মহোৎসব চালাতে প্রতিক্রিয়াশীল ও সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন ব্যাক্তিরা স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে জয়লাভ করলে গনতন্ত্রের ভবিষ্যত আরও মারাত্মক ঝুকিতে পড়বে বলে ধারনা করছেন স্থাণীয় রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের লোকজন।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments