Homeজাতীয়কুমিল্লায় জলাবদ্ধতায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে

কুমিল্লায় জলাবদ্ধতায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে

মশিউর রহমান সেলিম, কুমিল্লা:
কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের বৃহত্তর লাকসামের লালমাই, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলাসহ লাকসাম এবং নাঙ্গলকোট পৌর শহরে গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলে গ্রামের নির্মাঞ্চলে মারাত্মক জলাবদ্ধতায় শিকার হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মধ্য শ্রাবন মাসে এসে সপ্তাহ ব্যাবধানে এ দুর্যোগ এ অঞ্চলের সার্বিক জনচলাচল অচল হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বানিজ্য স্থবির ও তার উপর আকস্মিক জলাবদ্ধতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ায় মানুষ শংকায় পড়েছে। ৪টি উপজেলাসহ ২টি পৌর শহরের নির্ম্নাঞ্চল প্রায় সময়ই মারাত্মক জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত থাকে।

 

এ অঞ্চলের একমাত্র ডাকাতিয়া নদীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক খাল জবর দখলসহ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামার কোন জায়গা নেই। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে লালমাই ৮টি, নাঙ্গলকোটের ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা, মনোহরগঞ্জের ১১টি ইউনিয়ন ও লাকসাম উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন এবং পৌরশহরের ৯টি ওয়ার্ডসহ ৪টি উপজেলার প্রায় শতাধিক গ্রামের নির্মাঞ্চল জলাবদ্ধতার শিকারে পড়েছে মানুষ এবং আগাম শীতকালীন শাক-সবজির মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলাগুলো ও ২টি পৌরশহরের সড়ক পথগুলো এখনো খানাখন্দে ভরা তবে একাধিক সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। ময়লা-আবর্জনায় শহরের অলি-গলিসহ এলাকার পরিবেশকে বেসামাল করে তুলেছে। নতুন-পুরাতন ডাকাতিয়া নদীসহ সংযোগ খালগুলো এ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম। বিশেষ করে এ অঞ্চলের চাইলতাতলী, ঘাগৈর, বেরুলা, কার্জন, মেল্লা,বাকই খাল, বিজরা, বাগমার, বুশ্চি, বাঙ্গড্ডা, হরিপুর, দোলখাঁ, জোড্ডা, বকসগঞ্জ, কুচাইতলী ও ছিলনিয়া খালের অবস্থা বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে। ওইসব খালগুলো জবর দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ গতিহীন। তার উপর ময়লা আবর্জনাসহ বিষাক্ত পানি জলাবদ্ধ হয়ে এ অঞ্চলের বিশুদ্ধ পানির মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে নানাহ রোগের আতংকে সকল পেশার মানুষ। ইতিমধ্যে খালের উপর ব্রীজ ও কালভাটগুলোর প্রবেশ পথ ভরাট হয়ে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

 

এ ছাড়া বিগত সরকারের ১৫বছর শাসনামলে অপরিকল্পিত ভাবে অবকাঠামো নির্মান করায় এ জলাবদ্ধতার মুল কারন বলে অভিমত সকল শ্রেনী পেশার মানুষের। পৌর শহর ২টিতে অবকাঠামো, ড্রেন, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মানে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নিতির কারণে এ অঞ্চলবাসি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পায়নি।

জেলার জলাখ্যাত ৪টি উপজেলায় প্রায় ২০ লক্ষাধিক লোকের বসবাস। প্রত্যেক বছর এলাকার মানুষ ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জবরদখলকারী ও নদী-খালের ভরাট নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন নিরব দর্শক। আষাড় মাস থেকে মধ্য শ্রাবন পযর্ন্ত হঠাৎ প্রবল বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে জেলা দক্ষিনাঞ্চলের ৪টি উপজেলাসহ ২টি পৌরশহরের কোথাও কোথাও পানি নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা না থাকায় পানি আটকে জলাবদ্ধতায় সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা দক্ষিনাঞ্চলের স্থাণীয় প্রশাসন গুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা মুখ খুলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তবে এ এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে এবং বন্যা উত্তর পুনঃবাসন প্রকল্প হাতে নিতে হলে কয়ে’শ কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে যা ৪টি উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের হাতে নেই।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments