Homeজাতীয়কুমিল্লায় রেললাইনের উপর দোকানীদের অবৈধ ব্যবসা

কুমিল্লায় রেললাইনের উপর দোকানীদের অবৈধ ব্যবসা

মশিউর রহমান সেলিম, কুমিল্লা:
কুমিল্লার রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের লাকসাম-নাঙ্গলকোট, লাকসাম-চাঁদপুর ও লাকসাম-নোয়াখালী ট্রেন রুটের দৌলতগঞ্জ, খিলা, নাথেরপেটুয়া ও বিপুলাশার রেললাইনের উপর যত্রতত্র দোকান-পাট গড়ে উঠেছে। জেলা দক্ষিনাঞ্চলের ২টি পৌরএলাকার বাজারের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া লাকসাম-নাঙ্গলকোট ও লাকসাম-নোয়াখালী রেললাইনের ওপর স্থানীয় এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা হরেক রকম পন্যের পসরা সাজিয়েছেন।

 

এছাড়া,ওই রেলপথ গুলো ঘেঁেষ গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। রেললাইনের ওপর এবং আশেপাশে ঘেঁেষ অবৈধ দোকান-পাট গড়ে উঠায় মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। এতে দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রায়ই। বার বার দুর্ঘটনা, প্রাণহানীর পর মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযানেও সরছে না অবৈধ দোকানীরা। বিভিন্ন পণ্যের দোকানীদের পাশাপাশি রেললাইনের পাশের জমির মালিকরা নিচু জায়গা ভরাট, নির্মাণ সামগ্রী লোড-আনলোডসহ নানা কাজে রেললাইন ঘেঁেষ গাড়ি পাকিং করে জনচলাচল বিঘ্ন ঘটাচ্ছেন। এতেই প্রায় সময়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। এদিকে, বার বার দুর্ঘটনা ও প্রাণহানী রোধে রেললাইনের ওপর এবং আশপাশে জবরদখলকারী টং দোকান ও ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদের অন্যত্র পূর্নবাসনের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার দাবি দীর্ঘদিন এলাকার সচেতন মহলের।

লাকসাম রেলওয়ে জংশনের এক কর্মচারী জানান, ওই রেললাইনের ওপর তরি-তরকারি ও মাছ বিক্রেতারা নিয়মিত পানি ফেলায় রেল লাইনের স্পিপারগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া রেললাইনের ওপর তরি-তরকারিসহ বিভিন্ন পণ্যের হাটবসার কারণে এই রেলপথের অনেক জায়গা জুড়ে কোনো পাথর নেই। ফলে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে এ রুটে বিভিন্ন ট্রেন। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের ট্রেন দূর্ঘটনারও আশংকা করছেন এলাকার মানুষ। অপরদিকে দৌলতগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশান সহ একাধিক ষ্টেশানে সন্ধ্যা হলেই মাদকসেবী ও বিভিন্নস্থান থেকে আগত মক্ষিরানীদের অপতৎপরতা এবং ওই ষ্টেশনের পিছনে মূলি- বাঁশ ব্যবসায়ীদের জবর দখলে চলে গেছে রেলওয়ের গোটা এলাকা। এখানে স্থাপনা তুলে ব্যবসা করতে রাজনৈতিক নেতা এবং রেলওয়ের কতিপয় কর্মকর্তা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন।

 

এছাড়া, প্রতিদিন পৌরসভা ২টির ইজারাদারদের খাজনাও দিতে হয়। আর কাদের টাকা দিতে হয় জানতে চাইলে ওই লাইনের গেটম্যানকে জিজ্ঞাসা করলেই উত্তর পাওয়া যাবে এবং ওইসব দোকানদাররা উচ্ছেদের ভয়ে তাদের নাম বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তবে সরকারি জায়গায় ব্যবসা করতে গেলে বিভিন্ন সম্যসায় পড়তে হয়। আজ মন্ত্রী, কাল রেলের অফিসার আসবেন তাই বিভিন্ন অজুহাতে কিছুদিন পর পর স্থাপনা তুলে নিতে হয় কিংবা প্রশাসন ভেঙ্গে ফেলে।

খাজনা আদায় সম্পর্কে স্থানীয় ইজারাদার জানায়, লাকসাম পৌর শহরের দৌলতগঞ্জ বাজারের দক্ষিন নোয়াখালী রেলগেইট, কবুতর বাজার এবং ব্যাংক রোড পর্যন্ত তাঁরা কয়েকজন মিলে পৌরসভার কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন। তাই তারা খাজনা আদায় করতে বিভিন্ন পন্যের দোকানীদের এখানে বসিয়েছেন।

লাকসাম রেলওয়ের ভুমি কার্যালয়ের নাম জানাকে অনিচ্চুক জনৈক কর্মর্কতা জানান, রেলওয়ের জায়গা অবৈধ দখলদারদের অনেকবার উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক তদবিরের কারণে আমরা কিছ্ইু করতে পারি না। রেলওয়ের জায়গা কিংবা রেললাইন ইজারা দেয়ার এখতিয়ার পৌর কর্তৃপক্ষের নেই। এটি সম্পূর্ন অবৈধ। রেলওয়ের কতিপয় কর্মচারির বিরুদ্ধে অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে আংশিক সত্যতা নিশ্চিত করলেও ওই কর্মকর্তা এ ব্যাপারে তিনি কিছূ জানেন না। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

লাকসাম ও নাঙ্গলকোট পৌর কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র জানান, লাকসাম-নাঙ্গলকোট ও লাকসাম-নোয়াখালী রেললাইন কিংবা রেলওয়ের জায়গা তারা ইজারা দেননি। রেললাইন ও আশপাশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পৌর কর্তৃপক্ষের নামে খাজনা আদায় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আরও জানান, পৌর এলাকার যে কোনো স্থানে ব্যবসা করতে হলে নিয়ম অনুযায়ী পৌরসভাকে খাজনা দিতে হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments