Homeজাতীয়নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক

নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসামে অবস্থিত ঐতিহাসিক নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ি ও জাদুঘর স্বপরিবারে পরিদর্শন করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম। ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ঘুরে দেখার পাশাপাশি তিনি জাদুঘরে সংরক্ষিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন ও নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থাপনা সম্পর্কে অবগত হন।

লাকসাম উপজেলার পশ্চিমগাঁওয়ে অবস্থিত নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নারী জাগরণের অন্যতম স্মৃতিবাহী নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। উনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট সমাজসংস্কারক ও শিক্ষানুরাগী নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এ ঐতিহাসিক বাড়িটি। বর্তমানে এর একটি অংশ জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক:

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারিতে সংরক্ষিত নবাব ফয়জুন্নেছার স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শন, ঐতিহাসিক সামগ্রী ও স্থাপত্যশৈলী ঘুরে দেখেন তিনি।

নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী ছিলেন নারী শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও জনসেবার অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মসজিদ ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আজও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। তাঁর স্মৃতিকে সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই জমিদার বাড়িটিকে জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

জাদুঘরের উন্নয়নে নতুন সংযোজন:

২০২৫ সালের এপ্রিলে নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ি জাদুঘরের তিনটি গ্যালারি ও অন্দরমহল উদ্বোধন করা হয়। ওই তিনটি গ্যালারিতে নবাব ফয়জুন্নেছার স্মৃতিবিজড়িত ১২৫টি নতুন নিদর্শন স্থান পায়। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের জন্য অতিথিশালার ব্যবস্থাও চালু করা হয়।

ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি সংরক্ষণ ও দর্শনার্থীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে কুমিল্লা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতিহাস-ঐতিহ্যপ্রেমী মানুষের কাছে স্থানটি ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

পরিবার নিয়ে ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শন:

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলামের স্বপরিবারে এ পরিদর্শন স্থানীয়ভাবে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঐতিহাসিক স্থানটি ঘুরে দেখার মাধ্যমে তিনি দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন।

পরিদর্শনকালে তিনি জমিদার বাড়ির স্থাপত্য, জাদুঘরের সংরক্ষণ কার্যক্রম এবং দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন বলে জানা গেছে।

পর্যটনের সম্ভাবনা:

নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ি শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা নয়; এটি কুমিল্লার ইতিহাস, নারী জাগরণ, শিক্ষা বিস্তার ও সমাজকল্যাণের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও প্রচার করা গেলে এটি লাকসামের পর্যটন খাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটির সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। একই সঙ্গে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর জীবন, কর্ম ও সমাজ সংস্কারের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরা হবে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলামের স্বপরিবারে নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ি জাদুঘর পরিদর্শন ঐতিহাসিক এ স্থাপনার প্রতি প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বাড়াবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments